পাঠক, বিগত পর্বে আমি সংক্ষিপ্ত আকারে এই ব্যাপারে আলোচনা করেছি। বস্তূত ওয়াকফ সম্পত্তির আয় হল ব্যাষ্টিক অর্থনীতির বিষয় বস্তু। কিন্তু ওয়াকফ আল আওলাদ থাকায় এটিকে সামষ্টিক অর্থনীতির আওতাভূক্ত করা হয়। কারণ ওয়াকফ আল আওলাদ এর অনেক সম্পত্তি রয়েছে তা সামষ্টিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। আপনি যখন এই ওয়াকফ সম্পত্তিকে সামষ্টিক অর্থনীতিতে নিয়ে আসবেন, তখনই রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির সাথে এটি সূদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যাবে। তাই ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো সামষ্টিক অর্থনীতির আওতায় না এনে স্বতন্ত্র ওয়াকফ অর্থনীতির আওতায় আনতে হবে। উদাহরণ স্বরুপ হানাফী মাযহাব মোতাবেক ওয়াকফ আল আওলাদ করা বৈধ। এদেশের অসংখ্য মুসলিম জমিদার এবং পরহেযগার মুসলমানগণ ওয়াকফ ফি সাবিলিল্লাহ এর পাশাপাশি ওয়াকফ আল আওলাদ করেছেন, যেমন ঢাকার শাহজাদী বেগম এর ওয়াকফকূত সম্পত্তি। মরহুম মাওলানা মহিউদ্দীন খান সাহেব এর নিকট যতটুকু শুনেছি, শুধুমাত্র শাহজাদী বেগম এর ওয়াকফকূত সম্পত্তির পরিমাণ এক লক্ষ একরের উপরে। তাহলে এই ওয়াকফ সম্পত্তির আয় ব্যায় মুসলমানদের কল্যানে ব্যায় হওয়ার কথা। শুধু শাহজাদী বেগম কেন আরো অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে যেগুলো এখন বেহাত, অথচ এই ওয়াকফ সম্পত্তি গুলো যদি সামান্য পরিমাণ ঠিক থাকত, তাহলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কারো কাছে হাত না পেতে নিজদের আয় দিয়েই চলতে পারত। অথচ আমার জানামতে শহরে কোন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা করার জন্য অনেকেই বাসা ভাড়া পর্যন্ত দিতে চায় না।
পাঠক, আমি বিগত পর্বে স্বতন্ত্র ওয়াকফ অর্থনীতির মূলনীতির উপর দূষ্টিপাত করেছি। স্বতন্ত্র ওয়াকফ অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হল ব্যাক্তি প্রভাব ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব হতে মুক্ত থেকে সম্পূর্ন শরীয়ত মোতাবেক পরিচালিত হবে। স্বতন্ত্র ওয়াকফ অর্থনীতির ধারনাটি মিসরের মামলূক সালতানাতের ওয়াকফ সম্পর্কিত পরিচালনা নীতি হতে নেয়া হয়েছে। অবশ্য মিসরের স্বতন্ত্র ওয়াকফ অর্থনীতি খেদিভ শাসনামলে অনেকটা বাধাগ্রস্ত হয়।
যদি আমার এই বিষয়ে কারো নিকট কোন ভূল ধরা পড়ে, তাহলে স্শোধন করার জন্য অনুরোধ রইল। আবার কারো যদি এই ব্যাপারে কোন উদ্ভাবন থাকে তাহলে মেহেরবানী করে অবহিত করবেন। সবাই সম্মিলিতভাবে বিষয়টি নিয়ে এগুতে হবে।
মোঃ মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া
চেয়ারম্যান
প্যান ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ
মোবাইল 01675-179168